কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার ব্যবস্থাপনায় বিদেশি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় এনজিওগুলোকে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তোলা হয়।

‘সাশ্রয়ী রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনার জন্য চাই স্থানীয় এনজিওদের নেতৃত্ব’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে কোস্ট ফাউন্ডেশন। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মো. ইকবাল উদ্দিনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ আট বছর ধরে তারা কক্সবাজারে অবস্থান করায় এখন দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ বিদেশি এনজিওগুলোর অদক্ষ ব্যবস্থাপনায় বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ খরচ হয়ে যাচ্ছে তাদের পেছনেই।

তাদের অভিযোগ, বিদেশি সংস্থার কর্মকর্তারা কক্সবাজার শহরে ব্যয়বহুল অফিস ও হোটেলে থাকেন এবং আলাদা গাড়ি ব্যবহার করে দুই-তিন ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যাম্পে যান। এতে বিপুল অর্থ অপচয় হয়। অথচ একজন রোহিঙ্গার খাবারের জন্য মাসে মাত্র ১২ ডলার বরাদ্দ রাখা হয় এবং শিক্ষার খাতেও বরাদ্দ দিন দিন কমছে।

স্থানীয় এনজিওগুলোকে যুক্ত করলে খরচ অনেকাংশে কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন তারা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের বসিয়ে না রেখে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করার আহ্বান জানান বক্তারা। তাদের মতে, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের উৎপাদিত পণ্য ইউরোপ ও আমেরিকায় শুল্কমুক্তভাবে রপ্তানি করা গেলে রোহিঙ্গাদের জীবনমান উন্নত হবে এবং দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে ।