বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যপদ সংরক্ষণ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করা কমিশনের দ্বিতীয় খণ্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বান্দরবানে বম, লুসাই ও পাংখোয়া এই তিন জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ আসনটি শুধুমাত্র বম জাতিগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষণ করা উচিত। এ জন্য আইন সংশোধনের প্রস্তাবও করা হয়েছে।
এই সুপারিশের বিরোধিতা করেছেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রবীণ শিক্ষাবিদ থানজামা লুসাই। তিনি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিজে লুসাই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে দুই মেয়াদে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। অথচ কমিশন বলছে, বান্দরবানে লুসাই ও পাংখোয়ার কোনো অস্তিত্ব নেই! এটি বিভ্রান্তিকর ও অপমানজনক।’

তিনি আরও বলেন, বান্দরবানে মোট ১১টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে, যাদের মধ্যে লুসাই ও পাংখোয়ারাও অন্তর্ভুক্ত। জনসংখ্যা কম হলেও এই জাতিগোষ্ঠীগুলোর সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার রয়েছে। ১৯৮৯ সালের সংশোধিত জেলা পরিষদ আইনে স্পষ্টভাবে বম, লুসাই ও পাংখোয়ার জন্য একটি আসন সংরক্ষণের বিধান রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুসাই ও পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর আদি নিবাস রাঙামাটি জেলা। তাই বান্দরবানে তাদের জন্য আলাদা আসন সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই। এর বিপরীতে, বম জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে বান্দরবানে বসবাস করে আসছে এবং জনসংখ্যাও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, বান্দরবানে বম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১১,৮৫৪ জন, আর লুসাই ও পাংখোয়ার সংখ্যা মাত্র ২৭৩।
থানজামা লুসাই বলেন, ‘সংখ্যা নয়, প্রতিনিধিত্বের ন্যায্যতা ও আইনি স্বীকৃতি হলো মুখ্য। জনসংখ্যা কম হওয়ায় আমাদের অধিকার খর্ব করা যাবে না। কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আমরা শুধু জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকেই নয়, চাকরি, শিক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পসহ সর্বক্ষেত্রেই বঞ্চনার শিকার হব।’
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম ম্যানুয়াল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনে লুসাই ও পাংখোয়ার স্বীকৃতি রয়েছে। এছাড়া বান্দরবানে বসবাসকারী ১১টি নৃগোষ্ঠীর তালিকাতেও এদের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে, যা কমিশনের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর করে তোলে।
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য ইলিরা দেওয়ান বলেন, “কমিশন নিজে থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তিন পার্বত্য জেলার বিশিষ্টজনেরা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটিই প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর এটি কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্টরা চাইলে প্রতিবেদন সংশোধনের প্রস্তাব পাঠাতে পারেন, সেটি নিশ্চয়ই বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
-পার্বত্য সময়


