পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রাঙামাটি ও কক্সবাজারে রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক মাসে দ্রুত বেড়েছে। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও আক্রান্তের সংখ্যা কম নয়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় স্থানীয়রা সময়মতো চিকিৎসা নিতে পারছেন না, ফলে রোগের জটিলতা বাড়ছে।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটিতে জুন ও জুলাই মাসে ম্যালেরিয়ার রোগী গত বছরের তুলনায় আট থেকে নয় গুণ বেড়েছে। কক্সবাজারে গত জুন মাসে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট এবং মশাবাহিত জীবাণুর প্রাদুর্ভাব ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়াচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানাচ্ছে, হাসপাতালে যথেষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী না থাকায় রোগীরা সঠিক সেবা পাচ্ছে না। আইসিইউ সুবিধা নেই, মশার উৎসস্থল ধ্বংসের কাজ অপর্যাপ্ত, এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাবও সমস্যাকে বাড়াচ্ছে। ব্র্যাক ও অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থা মশারি বিতরণ ও সচেতনতা কার্যক্রম চালাচ্ছে, তবে ইউএসএইডের ফান্ডিং বন্ধ হওয়ায় কার্যক্রম সীমিত।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা মেইলের খবরে বলা হয়েছে- ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অমিত দে জানিয়েছেন, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তিনি বলেন, রোগ শনাক্ত করে বিনামূল্যে পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যালেরিয়া প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনটি জেলার ৯০-৯৫ ভাগ রোগী এখানে, তাই স্থানীয়ভাবে মশার উৎসস্থল ধ্বংস, মশারি ব্যবহার এবং রোগ সচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।
-পার্বত্য সময়


