পার্বত্য চট্টগ্রামের নানিয়ারচর উপজেলার মারিচুক মৌন পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস (সন্তু লারমা গ্রুপ) ও ইউপিডিএফ (প্রসীত বিকাশ খীসা গ্রুপ)- এর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। 
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ২ টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে ১০-১২ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়, তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেএসএস (সন্তু) দলের সশস্ত্র গ্রুপের নেতৃত্বে কমাণ্ডার দীপ্ত চাকমা ও ইউপিডিএফ (প্রসীত) দলের কমাণ্ডার জয় মারমার নেতৃত্বে দুটি সশস্ত্র গ্রুপ মারিচুক মৌন পাহাড় দখলের চেষ্টা চালায়। উভয় পক্ষের সদস্যরা পাহাড়ে অবস্থান নেওয়ার পর গোলাগুলি শুরু হয়। গুলিবিনিময়ের সময় উভয় পক্ষের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ জন। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনার পেছনে মূল কারণ হলো মারিচুক এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়া। স্থানীয়রা জানান, সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় এলাকায় আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেএসএস ও ইউপিডিএফ উভয় পক্ষই এই এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
মারিচুক এলাকার বাসিন্দারা জানান, সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. শামসুল আলম বলেন, "এই এলাকায় সেনা ক্যাম্প স্থাপন হলে স্থানীয়রা নিরাপত্তা পেত। এখন আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত বাড়ছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।"
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। নানিয়ারচর থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, "আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আমরা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছি।"
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষমতার লড়াই বেড়েছে। এই সংঘাত স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত করছে। তারা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই সংঘাত রোধে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

-পার্বত্য সময়