অভাব–অনটনে জর্জরিত সংসারের হাল ধরতে এগিয়ে এসেছিলেন রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার আসামবস্তির বরাদাম এলাকার গৃহিণী রিমা চাকমা। কখনো ভেবেই দেখেননি, গাঁদা ফুলের চাষই একদিন বদলে দেবে তার জীবন। কষ্ট, হাসিঠাট্টা আর সন্দেহের দেয়াল পেরিয়ে আজ তিনি সফল এক নারী উদ্যোক্তা।

স্বামী পাহাড় থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করে বিক্রি করলেও পাঁচজনের সংসার চালানো ছিল কঠিন। দুই সন্তানের পড়াশোনা, ঘরের নিত্য খরচ- সব মিলিয়ে প্রায়ই হিমশিম খেতে হতো। এমন সময় স্থানীয় এক কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে দুই বছর আগে বাড়ির পাশের পাহাড়ি ঢালে দুই শতক পতিত জমিতে শুরু করেন গাঁদা ফুলের চাষ। শুরুতে পুঁজির অভাব আর লোকজনের ঠাট্টা–বিদ্রুপ ছিল বড় বাধা; তারপরও থেমে যাননি রিমা।

রিমা চাকমা বলেন, “মেয়ে হয়ে ফুলের চাষ করছি- এতে লাভ হবে কি না, সবাই নানা কথা বলত। কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি। এখন এই ফুলই আমার পরিবারকে টেনে ধরছে, দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছে।”

শীতের মৌসুম ও বিভিন্ন পূজাকে কেন্দ্র করে গাঁদা ফুলের চাহিদা বাড়ে। প্রতিদিন আসামবস্তি–কাপ্তাই সড়কের বিলাইছড়ি পাড়া বাজারে ফুল বিক্রি করেন রিমা। স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এখন তার ফুল পৌঁছাচ্ছে রাঙ্গামাটি শহরের পাইকারি বাজারেও। মাসে তার আয় হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

কর্মদক্ষতা ও অধ্যবসায়ের এই সাফল্য শুধু রিমার জীবনেই পরিবর্তন আনেনি; অনুপ্রাণিত করেছে এলাকার আরও অনেক নারীকে। ভবিষ্যতে চাষের পরিধি আরও বাড়িয়ে বড় উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

“সরকার থেকে একটু সহযোগিতা পেলে আরও জমি লিজ নিয়ে চাষ করতে পারব। আমার মতো আরও অনেক দিদিদেরও কাজের সুযোগ করে দিতে পারব,” বললেন রিমা চাকমা।

রিমার গল্প প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে পাহাড়ের মতো কঠিন বাস্তবতাও জয় করা যায়। গাঁদা ফুলের বাগান আজ তার পরিবারের স্বপ্ন, স্বচ্ছলতা আর নতুন জীবনের প্রতীক।