খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় চাঁদাবাজির সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন মার্টিন চাকমা (৩১) নামে এক কুখ্যাত সন্ত্রাসী। বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে গুইমারার দেওয়ানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মার্টিন চাকমা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। তার চাঁদাবাজিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে আটক করে বেধড়ক মারধর করে। খবর পেয়ে গুইমারা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মার্টিনকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিংহ্লা মারমা জানান, “মার্টিন প্রায়ই ফোনে হত্যার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করত। আমরা বহুবার প্রতিরোধের চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে থামেনি। আজ তাকে হাতেনাতে ধরা গেছে।”
ওই এলাকার পাইচা চিং বলেন, “মার্টিন নিজেকে একটি ‘আন্দোলনের লোক’ দাবি করে এলাকায় ভয়ভীতি ছড়াত। তার সঙ্গে সবসময় আরও কয়েকজন থাকত। তারা বিভিন্ন দোকান ও বাড়িতে গিয়ে চাঁদা আদায় করত। জনতা একপর্যায়ে ধৈর্য হারিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।”
পুলিশ জানায়, মার্টিন চাকমার বাড়ি রাঙামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নের ঢুলুপাড়া গ্রামে। পিতা নিরঞ্জন চাকমা ও মাতা শুভপুতি চাকমা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট সেনাবাহিনী তাকে ঘাগড়া ৩ইবি এলাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। পরে মুচলেকা দিয়ে সে মুক্তি পায় এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধে জড়াবে না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু এরপরও সে আবার কাউখালীতে চাঁদাবাজি, গাড়ি ছিনতাই, অস্ত্র ব্যবসা, অপহরণসহ নানা অপরাধে লিপ্ত হয়।
বিশেষ করে কাউখালীর হাজাছড়ি এলাকার দোকানদার লিটন চাকমাকে অপহরণ করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাকে কাউখালী এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, মার্টিন চাকমার বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান।
-পার্বত্য সময়


