চলতি অর্থবছরের শুরুতেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চরম ধীরগতির চিত্র সামনে এসেছে। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই–নভেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পাওয়া অর্থের ৫ শতাংশও ব্যয় করতে পারেনি। একই অবস্থায় রয়েছে আরও সাতটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট এডিপি বরাদ্দের মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বরাদ্দের ৫ শতাংশেরও কম অর্থ ব্যয় করেছে, তার মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগ। এ ছাড়া সংসদ বিষয়ক সচিবালয় পাঁচ মাসে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি।

বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে থাকা ১৫টি প্রকল্পে ৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এই সময়ে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৯৩ কোটি টাকা। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ব্যয় করতে পেরেছে মাত্র ৮৬ কোটি টাকা।

এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বরাদ্দের ২ দশমিক ৩১ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ২ দশমিক ১২ শতাংশ, সুরক্ষা সেবা বিভাগ ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জননিরাপত্তা বিভাগ সবচেয়ে কম- মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে।

চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য সরকার মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন করেছে। তবে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মিলিয়ে মোট ব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ হাজার ১৭১ কোটি টাকা কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন ব্যয়ের এই মন্থর গতি অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক খাত এবং সেবা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক অদক্ষতা ও পরিকল্পনার দুর্বলতাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন