খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সরকারি নিয়োগে কোটা সংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন আমলে নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে ‘মর্ম অনুযায়ী’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিষদ-১ শাখার উপসচিব মোঙ্গল চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং ১০০৩৯/২০২৫ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ির অধীনস্থ সকল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে প্রাপ্ত আবেদনপত্রের মর্ম অনুযায়ী সদয় অবগতি ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন, খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ উল্লাহ গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে চলমান ও প্রক্রিয়াধীন সকল নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানান এবং এ সংক্রান্ত হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১০০৩৯/২০২৫-এর বিষয়টি তুলে ধরেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্ট রিটটি গ্রহণ করে ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রিটে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যালয়সহ পরিষদের অধীন বাজার ফান্ড প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা গ্রন্থাগার এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও পুনঃবিজ্ঞপ্তিতে কোটা সংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠির প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে ‘পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে’ একটি সুষ্ঠু ও আইনসম্মত সমাধান নিশ্চিত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।