চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইকোপার্ক এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সাত বছরের শিশুটির বাড়িতে গিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে শিশুটির বাড়িতে যান তিনি। এ সময় তিনি জানান, শিশুটির পরিবারের পাশে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। রোববার সকালে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক–এর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল।

জানা যায়, চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা প্রথম শিশুটিকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ওই রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানা–য় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মঙ্গলবার বিকালে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী বাবু শেখ চকলেটের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে হাত ধরে ইকোপার্কে নিয়ে যায়। পরে গলাকাটা অবস্থায় শিশুটি একাই হেঁটে পার্ক থেকে বেরিয়ে আসে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কুমিরা এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক মনির হোসেনের সঙ্গে অভিযুক্ত বাবু শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইকোপার্কের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। শিশুটি চিৎকার করলে তাকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। বাসা থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে চকলেটের খোসাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।