পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২৮ বছর আগে তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত এই মন্ত্রণালয়ে এই প্রথমবারের মতো একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মীর হেলাল।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা উপমন্ত্রী- সবাই ছিলেন অ-বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি। সেই ধারায় এবারই প্রথম পরিবর্তন এল।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী–বায়েজিদ) আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার মীর হেলাল। তিনি বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন- এর পুত্র। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার উত্থান কেবল পারিবারিক পরিচয়ের ওপর দাঁড়িয়ে নয়। বিদেশে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ), চেয়ারপার্সনের বৈদেশিক সম্পর্ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী, মিডিয়া সেলের সদস্য এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন–এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি দলের লিগ্যাল রিসার্চ সেলের আহ্বায়ক।

শিক্ষাজীবনে ব্যারিস্টার মীর হেলাল যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন থেকে এলএলবি (অনার্স) এবং ইউনিভার্সিটি অব ল (ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস) থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০০৪ সালে তিনি অনারেবল সোসাইটি অব লিংকন’স ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। পেশাগতভাবে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং ‘দ্য লয়ার্স কাউন্সিল’–এর হেড অব চেম্বার্স।

মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মীর হেলাল বলেন, বিদেশ থেকে ফিরে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং গত ১৭ বছর আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। চট্টগ্রামে বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। হাটহাজারী আসন থেকে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয় পাওয়াকে তিনি জনগণের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি তারই অংশ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মীর হেলাল বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি- উভয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই এই অঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভব। পার্বত্য জেলাগুলোকে ট্যুরিজম জোন হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় সম্পদ ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে অঞ্চলটিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তার ভাষায়, “সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও উন্নত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”