চট্টগ্রাম হিলট্র্যাক্টস (সিএইচটি)-এর সাজেক অঞ্চলের মাহমুয়াম গ্রামে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মিজো পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী জাতিগত সংগঠন ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমএ)। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সহায়তা নিছক মানবিক নয়, এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক এবং সংগঠনগত একটি সুগভীর উদ্দেশ্য।
সম্প্রতি ওয়াইএমএর কেন্দ্রীয় কমিটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ১৮টি মিজো পরিবারের জন্য সংগঠনের আইজল শহর ইউনিটগুলো থেকে সংগ্রহ করা ৫ লাখ ১১ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ হিসেবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই পরিবারগুলো গত ২৪ ফেব্রুয়ারির অগ্নিকাণ্ডে তাদের ঘরবাড়ি ও সমস্ত সম্পত্তি হারায়।
তবে স্থানীয় সূত্রগুলো এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থমূল্য সহায়তা কেবল মানবিকতার প্রকাশ নয়, বরং বাংলাদেশে বসবাসরত মিজো জনগোষ্ঠীকে পুনরায় সংগঠিত ও সক্রিয় করার একটি কৌশলিক প্রয়াস। তাদের ভাষায়, "এটি জোল্যান্ড নামক স্বপ্নের বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড বাস্তবায়নের দীর্ঘমেয়াদি ইনভেস্টমেন্ট।"
জোল্যান্ড ধারণাটি মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, এবং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু অংশজুড়ে একটি ঐক্যবদ্ধ মিজো/কুকি-চিন রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ধারণা যদিও আদর্শিকভাবে উপস্থাপিত হয়, বাস্তবে এটি ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য একটি জটিল চ্যালেঞ্জ।
সূত্র বলছে, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস দমন অভিযানের মুখে প্রায় ২ হাজারের বেশি কেএনএফ সন্ত্রাসের সাথে জড়িত লোকজন  বান্দরবানের থানচি ও রুমা সীমান্ত এলাকা থেকে মিজোরামে পালিয়ে গেছে।  তারা ‘শরণার্থী’ হলেও, ভারতের মিজো সম্প্রদায় ও সংগঠনগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা এবং অর্থায়নে তারা এখন একটি সাংগঠনিক কাঠামোয় পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াইএমএর এই অর্থ সহায়তা আদতে একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা বহন করে। এটি একটি সাংগঠনিক পৃষ্ঠপোষকতার প্রকাশ, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতরে মিজোদের জাতিগত আত্মপরিচয় রক্ষার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সক্রিয়তার ভিত্তি রচিত হচ্ছে।
একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওয়াইএমএর এই সহায়তা প্রাথমিকভাবে মানবিক মনে হলেও, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনাটি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের আরও সতর্কতা ও নজরদারির প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

-পার্বত্য সময়