রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নের ঘটনায় লক্ষাধিক মানুষের জীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রসীত খীসা গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, চাঁদা না দেওয়ার কারণে মোবাইল টাওয়ারে হামলা চালিয়ে সেবাদান ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকেজো করে দেওয়ার। এ ঘটনায় স্থানীয়রা শুধু অসুবিধার শিকারই হননি, বরং এটি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি এলাকার স্বাস্থ্যসেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য মানুষ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে পারছে না। এছাড়া এলাকাবাসী প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা চিকিৎসা সংক্রান্ত সেবাও পেতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
এছাড়া ইন্টারনেট-নির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। একইসাথে প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয় মানুষের সেবা প্রাপ্তিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে উদ্বেগ জানিয়েছেন মোবাইল ও ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসার উদ্যোক্তরা। নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যবসায়ীরা গ্রাহক এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, “মোটা অংকের চাঁদার জন্যই পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন টাওয়ারগুলো অকেজো করেছে। তবে এখনো সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটর কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি।” প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানানো হলেও, ভুক্তভোগী মানুষের দুঃখ-কষ্ট এখনো সমাধান পায়নি।
ইউপিডিএফের এমন আচরণ শুধু আর্থিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি সরাসরি মানুষের যোগাযোগের মৌলিক অধিকার এবং জরুরি পরিষেবার সুযোগ লঙ্ঘন করেছে। এই ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যা সাধারণ মানুষের জীবনমানের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করছেন ভুক্তভোগীরা। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে ভুক্তভোগীদের পুনরায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা নিশ্চিত করা জরুরি। একইসাথে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপত্তা বাহিনী, প্রশাসন এবং টেলিকম অপারেটরদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে পাহাড়ি ওই জনগোষ্ঠী আরও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।

-পার্বত্য সময়