রাঙামাটির জুরাছড়িতে কিনা মোহন চাকমা হত্যার ১৮ বছর পর তিন আসামির বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। বুধবার (৬ আগস্ট) রাঙামাটির জেলা ও দায়রা জজ মো. আহসান তারেক এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সুবল চন্দ্র চাকমা (ওরফে সুকৃতি/বুইজ্জা চাকমা), হৃদয় কুমার চাকমা ও বুদ্ধমনি চাকমা। এছাড়া তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক। তবে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকি আট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
২০০৬ সালের ১ ডিসেম্বর দুপুরে জেএসএস সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কিনা মোহন চাকমাকে রাঙামাটি থেকে জুরাছড়ি যাওয়ার পথে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। পরে নির্জন স্থানে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। তার শরীর থেকে হাত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এমনকি নির্যাতনের সময় শরীরের চামড়াও তুলে ফেলা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল।
ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে প্রিয় কুমার চাকমা বাদী হয়ে জুরাছড়ি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০০৭ সালের ১ জুন ১১ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত বুদ্ধমনি চাকমা আদালতে উপস্থিত থাকলেও অপর দুই আসামি সুবল ও হৃদয় কুমার পলাতক ছিলেন। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় প্রদানের মাধ্যমে বিচারক মো. আহসান তারেক পার্বত্য অঞ্চলের দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি অস্ত্র, মাদক ও হত্যার মামলায় সাজা প্রদান করে নজর কেড়েছেন।

-পার্বত্য সময়