বান্দরবানে অব্যাহতভাবে চলছে অবৈধ পাহাড় কাটার কার্যক্রম। প্রশাসনের নজরদারি ও মাঝেমধ্যে অভিযানের পরও থামছে না পাহাড়খেকোদের দৌরাত্ম্য। বসতবাড়ি নির্মাণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, ইটভাটা ও রাস্তা তৈরির নামে সরকারি, বেসরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালীরা দিনে-দুপুরে নির্বিচারে পাহাড় কেটে ফেলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে একদিকে যেমন বাড়ছে ভূমিধসের ঝুঁকি, অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়ছে পাহাড়ি এলাকার জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। স্থানীয়দের মতে, পাহাড়ের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় অবিলম্বে এই অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ করা জরুরি।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সমতল জেলার তুলনায় বান্দরবানের ভূপ্রকৃতি ভিন্ন। জেলাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য উঁচু-নিচু পাহাড়, বিস্তৃত বনাঞ্চল এবং সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য। পাহাড়ি ভূখণ্ড হওয়ায় সমতল ভূমির পরিমাণ তুলনামূলক কম। ফলে জেলার অনেক মানুষ পাহাড়ের পাদদেশ কেটে বসতি গড়ে তুলেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে শুধু বসতবাড়ি নয়, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুকুর ও জলাশয় ভরাট, বাঁধ নির্মাণ, ইটভাটা ও রাস্তা তৈরির অজুহাতে স্কেভেটর দিয়ে ব্যাপকভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শহরের বনরূপা, কালাঘাটা, বালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটা, রোয়াংছড়ি বাসস্টেশন, লেমুঝিরি, বাকিছড়া ও ফজর আলী পাড়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও এতে কার্যত পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। বরং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণে এ কর্মকাণ্ড দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

অবাধে পাহাড় কাটার ফলে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই দেখা দেয় ভূমিধসের ঝুঁকি। অতীতে বিভিন্ন সময় পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। তাই পাহাড়ি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সময়ের সঙ্গে পাহাড় কাটার সিন্ডিকেটের পরিবর্তন ঘটে। যারা পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় ৬৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও এনফোর্সমেন্ট অভিযানের মাধ্যমে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া এ সংক্রান্ত আরও ১৫টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।