বান্দরবানের থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের টিঅ্যান্ডটি পাড়ায় ঈদুল আজহার দিন পানির তীব্র সংকটে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। গ্রামের প্রায় ৬০টি মুসলিম পরিবারের ৩০০ সদস্য ঈদের দিনে কোরবানির মাংস ধোয়া, রান্না, অজু ও গোসলের মতো মৌলিক কাজেও চরম ভোগান্তির শিকার হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাংদাক ঝিরি থেকে গ্রামে পানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) পাইপ গত শুক্রবার (৬ জুন) রাতে দুর্বৃত্তরা কেটে দেয়। ফলে শনিবার ঈদের দিন থেকে পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
২০১৮-১৯ সালে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে প্রায় ৮ হাজার ফুট পাইপ বসিয়ে এই পানির প্রকল্প চালু হয়। ভারী বর্ষণে কিছুদিন আগে পাইপে ফাটল ধরলেও ঈদের আগেই স্থানীয়রা চাঁদা তুলে মেরামত করেছিলেন। কিন্তু ঈদের দিন সকালে পানি না পেয়ে গ্রামবাসী ঝিরিতে গিয়ে দেখতে পান, পাইপগুলো টুকরো করে কেটে ফেলা হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে টিঅ্যান্ডটি পাড়ার মানুষজন দেড় কিলোমিটার দূরের থানচি বাজার থেকে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হন।

গ্রামের বাসিন্দা মো. ইউছুপ বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই পানি ব্যবহার করছি। পাইপ কেটে দেওয়ায় আমাদের ঈদটা দুর্বিষহ হয়ে গেছে।”

মো. গফুর জানান, “নতুন পাইপ কেনা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”

অন্য এক বাসিন্দা মনসুর আলী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা নিরীহ মানুষ, আমাদের কষ্ট একটু বোঝার চেষ্টা করুন।”

এ বিষয়ে থানচি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো জানান, বর্তমানে বরাদ্দ শেষ হয়ে গেছে, তবে ভবিষ্যতের যেকোনো বরাদ্দে টিঅ্যান্ডটি পাড়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

উপজেলার জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা জানান, তিনি ছুটিতে আছেন এবং ফিরে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে সোমবার (৯ জুন) টিঅ্যান্ডটি পাড়াবাসী থানচি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্তে গিয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. তৌফিক আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাইপ কাটার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। থানার ওসি নাছির উদ্দিন মজুমদার জানান, অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 

--পার্বত্য সময়