জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি জিইয়ে রেখে তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন আর সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যদি কোনো সমস্যা থাকে, তা আমরা নিজেরাই সমাধান করব। কিন্তু বাইরের কেউ যেন ফায়দা না তুলতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।”
রোববার (২০ জুলাই) রাঙামাটির বনরূপা টেক্সি-অটোরিকশা স্ট্যান্ডে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। এনসিপির কেন্দ্রীয় এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাঙামাটিতে প্রথমবারের মতো দলের বড় আকারের কোনো সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাঙামাটি জেলার প্রধান সমন্বয়কারী বিপিন জ্যোতি চাকমা। এতে আরও বক্তব্য দেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্ত শারমিন, সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে যেভাবে সব জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করা হয়েছে, তা আমরা মেনে নিই না। ৭২-এর সংবিধানকে আমরা মুজিববাদী সংবিধান বলি, যেখানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় অবাঙালি জনগোষ্ঠীকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। আজ আমরা চাই, একটি নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান, যেখানে সবাই—সব সম্প্রদায়—সমান মর্যাদায় অংশ নেবে।”
তিনি বলেন, “মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমাও সেই সংবিধানের বিরোধিতা করেছিলেন। এখন সময় এসেছে নতুন এক সামাজিক চুক্তির- আপনি আমি মিলে সেই নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান রচনার।”
পাহাড়ে সব জাতিসত্তার মানবাধিকার সুরক্ষা ও ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বমসহ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী যেমন ভাষা ও ভূমির অধিকারের জন্য লড়াই করছে, তেমনি এখানকার বাঙালিরাও নানাভাবে বঞ্চনার শিকার। আমাদের সংগ্রামটা আলাদা নয়- এটা একটাই, সম্মিলিত অধিকার অর্জনের সংগ্রাম।”
এ সময় তিনি পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য সংলাপ ও সমঝোতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সচেতন থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বান্দরবানের এক অনুষ্ঠানে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বক্তব্য দেওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
এর আগে দুপুরে শিল্পকলা একাডেমি থেকে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শুরু হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বনরূপা স্ট্যান্ডে এসে সমাবেশে পরিণত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে এনসিপির শত শত নেতাকর্মী যোগ দেন।

-পার্বত্য সময়