রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের বগাছড়ি কৈলাশ পাড়ায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একটি বসতঘর পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা নস্যাৎ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় মন্টু চাকমার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও একটি বিশেষ গোষ্ঠী এটিকে বাঙালিদের হামলা বলে প্রচার চালায়। ইউপিডিএফ তাদের ফেসবুক পেজ ও স্থানীয় কিছু ওয়েব পোর্টালে ‘বাঙালিদের হামলায় পাহাড়ির ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’—এমন অপপ্রচার শুরু করে, যা দাঙ্গা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই গুজবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও নিরাপত্তা বাহিনীর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে ইউপিডিএফ। তারা দুর্ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে পাহাড়ে বাঙালি-উপজাতি বিরোধিতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতেও তারা পাহাড়ে অস্থিরতা তৈরির জন্য নানা ষড়যন্ত্র করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, "আমরা দ্রুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরেছি। এ ধরনের অপপ্রচার যাতে ভবিষ্যতে সংঘাত সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সজাগ আছি।"
এদিকে, স্থানীয় বাঙালিরা দাবি করেছেন, ঐ এলাকায় তাদের বন্দোবস্তকৃত রেকর্ডীয় জায়গা রয়েছে, যা একসময় জেএসএস শান্তিবাহিনী দখল করে নেয়। ২০০৮ সাল থেকে ইউপিডিএফ পরিকল্পিতভাবে এসব জায়গা থেকে বাঙালিদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সচেতন মহল মনে করেন, পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে ইউপিডিএফ। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভবিষ্যতে এ ধরনের ষড়যন্ত্র আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

-পার্বত্য সময়