বান্দরবানে বছরের প্রথম দিনেই পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি নিজ মাতৃভাষায় ছাপানো বই পেল পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা। মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা তিনটি সম্প্রদায়ের ১৮হাজার ৪৯৭ শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে নিজ মাতৃভাষার বই।
বছরের প্রথম দিন নিজ মাতৃভাষার বই পেয়ে ভীষণ খুশি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা।
শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খুমী, খেয়াং লুসাই, পাঙ্খোয়া জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকের নিজস্ব ভাষা, বর্ণমালা এবং ঐতিহ্য সংস্কৃতি কৃষ্টি কালচার রয়েছে। কিন্তু সংরক্ষণ এবং চর্চার অভাবে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষা বিলুপ্তির পথে।
পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীগুলোর ভাষা, বর্ণমালা এবং সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ২০১৭ সালে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব মাতৃভাষায় বই পাঠ্য পুস্তকে লিপিবদ্ধ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্য বই হিসেবে বিতরণ করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বছরের প্রথমদিনেই বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলায় পাঠ্য বই বিতরণের পাশাপাশি পাহাড়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মারমা, চাকমা এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের নিজ মাতৃভাষার বই বিতরণ করা হয়েছে।
পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি নিজ মাতৃভাষার বর্ণমালা চিনতে ও জানতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ মাতৃভাষার বইও পড়ানো হচ্ছে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। আর বছরের প্রথম দিন পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি নিজ মাতৃভাষার বই পেয়ে ভীষণ খুশি শিক্ষার্থীরা।
এবার জেলার ৭টি উপজেলায় ১২ হাজার ৭০২টি মারমা মাতৃভাষার বই, ৪ হাজার ৫৮১টি ত্রিপুরা মাতৃভাষার বই এবং ১২ হাজার ১৪টি চাকমা ভাষার বই বিতরণ করা হবে। আর শিক্ষার্থীদের নিজ মাতৃভাষার বর্ণমালা শিখাতে সপ্তাহে একদিন পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিজ মাতৃভাষার এসব বই পড়ানো হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, নতুন বছরের প্রথমদিনে নতুন বই পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি। পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে নিজেদের মারমা, চাকমা ও ত্রিপুরা ভাষায় ছাপানো বইও দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তাপস কুমার পাল জানান, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের মাধ্যমে সব বিদ্যালয়ে মাতৃভাষায় পাঠদান করানো হচ্ছে।
রিজভী রাহাত, বান্দরবান
- -পার্বত্য সময়


