বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বনাঞ্চল রাঙামাটির কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে নতুন একটি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শাবকটির জন্ম হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন। নতুন বছরে এই প্রথম হাতি শাবকের জন্ম হওয়ায় বনবিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বুনো হাতির উপস্থিতি বাড়ায় মানুষ ও হাতির মধ্যে দ্বন্দ্বের ঘটনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, বনে খাদ্য সংকটের কারণেই বন্যহাতির দল লোকালয়ে নেমে আসছে। তবে বনবিভাগ বলছে, এই অভিযোগ পুরোপুরি সঠিক নয়।
বনবিভাগের মতে, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে হাতির আবাসস্থল ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত হওয়াতেই নতুন হাতি শাবকের সুস্থ জন্ম সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি বুনো হাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর নিরাপদ ও স্বাভাবিক বসবাস নিশ্চিত করতে জাতীয় উদ্যানকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ওমর ফারুক স্বাধীন বলেন, নতুন বছরে একটি হাতি শাবকের জন্ম আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। বুনো হাতির আবাসস্থল রক্ষা এবং খাদ্য সংকট দূর করতে বনবিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বনাঞ্চল। এখানে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৪২টি বুনো হাতি দলবদ্ধভাবে বিচরণ করছে। হাতির পাশাপাশি এখানে রয়েছে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও মূল্যবান বনজ সম্পদ।
তিনি আরও জানান, বিগত বছরগুলোতেও এই উদ্যানে দুই থেকে তিনটি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে। তবে নতুন বছরে এটি প্রথম শাবক। বর্তমানে শাবকটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো হাতির পালকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাতির খাদ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় উদ্যানে হাতির আবাসস্থলের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মানুষ ও হাতির সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই দ্বন্দ্বের পেছনে মানুষেরও দায় রয়েছে। হাতির চলাচলের করিডোর এলাকায় পাকা রাস্তা, বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে তাদের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বন্যহাতি উত্তেজিত হয়ে মানুষ ও জানমালের ওপর আক্রমণ করছে। তাই জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। হাতি সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং বনবিভাগকে সহযোগিতা করতে হবে।
প্রসঙ্গত, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রায় ৫ হাজার ৪৬৪ হেক্টর আয়তনের এই উদ্যান ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনাঞ্চল, সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনা এবং বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী ও পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ বন বিভাগের অধীনে পরিচালিত এই উদ্যান দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত এলাকা।


