রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে প্রথমবারের মতো এক নতুন প্রজাতির আইড় মাছের সন্ধান পেয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘স্পেরেটা অরেলা’। এটি আগে বাংলাদেশে কখনো শনাক্ত হয়নি।
বিএফআরআইয়ের নদী উপকেন্দ্র, রাঙামাটি শাখার একদল গবেষক আইড় মাছের বাহ্যিক গঠন ও জিন বিশ্লেষণ করতে গিয়েই এ নতুন প্রজাতির সন্ধান পান। গবেষণায় দেখা গেছে, এর দেহের গঠন, চোয়াল, বারবেল, এডিপোজ ফিন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্য পূর্বে চিহ্নিত ‘স্পেরেটা অর’ ও ‘স্পেরেটা সিনঘলা’ প্রজাতি থেকে পুরোপুরি আলাদা। পরে কৌলিতাত্ত্বিক গবেষণায় মাছটির ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা যায়, এটি ‘স্পেরেটা অরেলা’ নামক একটি স্বতন্ত্র প্রজাতির সঙ্গে শতভাগ মিলে যায়।
মাছটির দেহ লম্বা ও সরু, পৃষ্ঠদেশ ধূসর, পেটের দিক সাদাটে এবং দেহের পাশ রুপালি রঙের। এটি সাধারণত ১ থেকে ১.৫ কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এর বারবেল দীর্ঘ এবং প্রায় পুচ্ছ পাখনা পর্যন্ত বিস্তৃত, চোখের সামনের অংশ অপেক্ষাকৃত লম্বা ও এপিনিউরাল শিল্ড সরু। মাছটির চোয়াল ছাঁটা ও স্পষ্ট, যা ‘স্পেরেটা সিনঘলা’র সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও অন্যান্য গঠনগত দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের ২০১৫ সালের তালিকায় ‘স্পেরেটা অর’ ও ‘স্পেরেটা সিনঘলা’কে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও ‘স্পেরেটা অরেলা’ এখনো ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে গবেষকরা মনে করছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন এবং সংরক্ষণের বিষয়ে এখন থেকেই নজর দেওয়া প্রয়োজন।
গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন বিএফআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আজহার আলী এবং ড. মো. রবিউল আউয়াল হোসেন। তাদের সঙ্গে আরও যুক্ত ছিলেন মো. ইশতিয়াক হায়দার, বি এম শাহিনুর রহমান, মো. খালেদ রহমান, রাবিনা আক্তার লিমা, মো. ইমদাদুল হক এবং মো. লিপন মিয়া।
নতুন এই আবিষ্কার বাংলাদেশের মৎস্যবিজ্ঞান ও জীববৈচিত্র্য গবেষণায় একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, এখন প্রয়োজন এই মাছটির প্রজনন, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা, যাতে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ করা যায়।

-পার্বত্য সময়