ভারতের মিজোরাম রাজ্যে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক চুক্তিবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)।
মিজোরামের রাজধানী আইজলের একটি বিশেষ আদালতে দাখিল করা চার্জশীটে এনআইএ জানায়, ইউপিডিএফ-এর সশস্ত্র শাখার সদস্যদের কাছে অবৈধভাবে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক অস্ত্র চোরাচালান চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে এই চক্রের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে বলে চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়।
এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে আলোক বিকাশ চাকমা নামে একজন ইউপিডিএফের সক্রিয় অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। তার মাধ্যমে সংগঠনটির সঙ্গে অস্ত্র চক্রের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
উল্লেখযোগ্য, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি মিজোরামের মামিট জেলার সাইথা গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাজ্য পুলিশ ৬টি একে-৪৭ রাইফেল, ১৩টি ম্যাগাজিন এবং ১০,০৫০ রাউন্ড গুলিসহ পাঁচ ব্যক্তিকে আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: লালবিয়াকচাংগা ওরফে ডেভিড, লালথমচেউভা ওরফে থওমা, মালসওমা, রুয়াললিয়ানসাংগা ওরফে সাংগা এবং আলোক বিকাশ চাকমা।
পরে মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ। দুই মাসের তদন্ত শেষে তারা নিশ্চিত হয় যে, আটক অস্ত্রের চালানটি ইউপিডিএফের জন্য পাঠানো হচ্ছিল এবং এ কাজে গ্রেফতার ব্যক্তিরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছিলেন।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর আন্তঃসীমান্ত অপারেশন, বিশেষ করে অস্ত্র পাচার ও সম্ভাব্য সহিংসতা বিস্তারের পরিকল্পনার বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ইউপিডিএফসহ অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো মিজোরাম এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় জাতিগত চক্রগুলোর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সহিংস কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করতে পারে।
প্রসঙ্গত, ইউপিডিএফ দীর্ঘদিন ধরে ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে পাহাড়ে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। মায়ানমার ও ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা দুর্গম অঞ্চলগুলোতে তাদের গতিবিধি এবং অস্ত্র সংগ্রহ সংক্রান্ত অভিযোগ পূর্বেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

-পার্বত্য সময়