অক্টোবর ২০২৪ থেকে মার্চ ২০২৫—এই ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘাত ও প্রতিহিংসার বলি হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। গড় হিসেবে প্রতি ছয় দিনে একজন করে খুন হয়েছেন এই অঞ্চলে।
এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফ (প্রসীত)। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই এই সংগঠনের কর্মীদের হাতে খুন হয়েছেন। জনসংহতি সমতি- জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের হাতে ৭ জন এবং অন্যান্য গোষ্ঠীর হাতে ৫ জন নিহত হন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৪-এ খুন হয় ৮ জন, নভেম্বরে ৭ জন, ডিসেম্বরে ৫ জন, জানুয়ারিতে ৪ জন। তবে ফেব্রুয়ারিতে কোনো খুন না হলেও মার্চে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৬ জনে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলেই এমন রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। মূলত ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএস (সন্তু) গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্যের লড়াই, চাঁদাবাজি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এই সহিংসতার পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা পাহাড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তারা বলছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরো সাহসী হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও এই সহিংসতা পাহাড়ি জনগণের স্বাভাবিক জীবনধারা ব্যাহত করছে। শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্থায়ী সমাধানের জন্য পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
-পার্বত্য সময়


