চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ও তার স্ত্রী মে হ্লা প্রুর নামে থাকা প্রায় ১৩ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজিল আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে বীর বাহাদুর ও তার স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, বীর বাহাদুর উ শৈ সিংয়ের নামে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং আটটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। অন্যদিকে তার স্ত্রী মে হ্লা প্রুর নামে চারটি ব্যাংক হিসাব, একটি নিউ হিনো এসি বাস, একটি প্রাইভেটকার এবং এক কোটি ২৮ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ চিহ্নিত করে জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বীর বাহাদুর উ শৈ সিং ও তার স্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধান শেষে কমিশনের অনুমোদনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তকালে তাদের সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে মামলার নিষ্পত্তির আগে সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা জরুরি হয়ে পড়ে।

বীর বাহাদুর উ শৈ সিং একাধিক মেয়াদে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ জমি দখল ও কাজ না করেই বিল উত্তোলন সংক্রান্ত অভিযোগ ছিল।

দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে বীর বাহাদুর ও তার পরিবারের নামে বিপুল সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার অনেকটাই সরকারি বা অনুদানভিত্তিক প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর বন্ধ থাকবে। মামলার তদন্ত সম্পন্ন হলে সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।