খাগড়াছড়িতে ধর্ষণকাণ্ড ঘিরে শুরু হওয়া অবরোধ এবার রাঙামাটি ও বান্দরবানেও সম্প্রসারিত হয়েছে। জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কোনো ছাত্রনেতার স্বাক্ষর ছিল না।
নতুন ঘোষণায় আগের ধর্ষণ মামলার বিচারের দাবি ছাড়াও আট দফা দাবি যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অবরোধকালে হামলা বা সহিংসতা প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের নিশ্চয়তা, ধর্ষণ মামলার অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার, সেনা ও ‘সেটলারদের’ হামলার তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা, আটক জুম্ম ছাত্রদের মুক্তি, আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা এবং ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার।
অবরোধকারীরা অভিযোগ করেছে, গত ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী ও বাঙালি ‘সেটলারদের’ হামলায় দোকানপাটে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে দাবি তাদের।
১৪৪ ধারা বলবৎ, জনজীবন স্থবির
খাগড়াছড়ির সদর ও গুইমারায় জারি থাকা ১৪৪ ধারা বহাল থাকায় দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ, পর্যটক এবং বিসিএস পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানান, প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকায় ভুক্তভোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রোববার গুইমারার রামসু বাজারে নিহত তিনজনের লাশ বর্তমানে খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সিভিল সার্জন জানান, সোমবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।
অস্ত্র উদ্ধার
অন্যদিকে কাপ্তাই বিজিবি ওয়াগ্গাছড়া চেকপোস্টে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েলের দাবি, এসব অস্ত্র ইউপিডিএফ খাগড়াছড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল বর্তমান পরিস্থিতিকে ঘোলাটে করতে। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থবির জনজীবন
তিন জেলায় অবরোধ চলায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বাজার-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, অফিসে কর্মচারীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। সর্বত্র থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।


