রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার গাইন্দ্যা ইউনিয়নের পাইন্দং পাড়া বৌদ্ধ বিহার চার মাস আগে অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়ার পর থেকে ধর্মীয় কার্যক্রম চলছে খোলা আকাশের নিচে। অস্বস্তিকর পরিবেশ, বৃষ্টিবাদল আর প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও এখানকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিহার চত্বরে নিয়মিত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে যাচ্ছেন।
২০০৫ সালে স্থানীয় ৫০-৬০টি পরিবার মিলে পাইন্দং পাড়ায় এই বিহারটি নির্মাণ করেছিলেন। পাড়ার কারবারি ও বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংচাখই মারমা গণমাধ্যমে বলেন, “আমরা সবাই দিনমজুর কিংবা কৃষিকাজ করি। আগুনে সব পুড়ে যাওয়ার পর এখন আমাদের উপাসনাস্থল বলতে কিছুই নেই। সামান্য অনুদানে কিছু টিন কিনে অস্থায়ীভাবে প্রার্থনার কক্ষটি চালু রেখেছি।”
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার ও উপজেলা প্রশাসন থেকে ৭ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে তাতে স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ সম্ভব নয়।
বিহারের অধ্যক্ষ পাইংদিতা মহাথের বলেন, “গত চার মাস ধরে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যদি একটি স্থায়ী ভবনের ব্যবস্থা হতো, তবে ধর্মীয় চর্চা নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হতো। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমা বলেন, “পাইন্দং পাড়া ইউনিয়ন সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বরাদ্দে বিহার নির্মাণ সম্ভব নয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
এদিকে রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্র  বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, কয়েক মাস আগে রাতে অগ্নিকাণ্ডে বিহারটি পুড়ে যায়। স্থানীয়দের আবেগ এবং ধর্মীয় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে আমরা বিষয়টি পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদে অবহিত করব। বড় বরাদ্দ ছাড়া নতুন বিহার নির্মাণ সম্ভব নয়।”
স্থানীয়দের দাবি, এই দুর্গম এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য একটি টেকসই ও নিরাপদ বিহার অত্যন্ত প্রয়োজন। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এখানে ধর্মীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

-সূত্র- পাহাড় টুয়েন্টিফোর ডট কম