রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ পাংখোয়াপাড়া একটি ঐতিহাসিক মানবিক সিদ্ধান্তের সাক্ষ্য বহন করছে। ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর ১১০টি পরিবার স্থায়ী বসতভিটা লাভ করে, যা তাদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চিত জীবনযাত্রার অবসান ঘটায়।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দুমদুম্যা ও পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি এলাকায় পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর পরিবারগুলো একসময় যাযাবর জীবনযাপন করত। নির্দিষ্ট বসতভিটা না থাকায় তাদের জীবন ছিল নিরাপত্তাহীন ও অনিশ্চয়তায় ভরা। ওই পরিস্থিতিতে ১৯৮১ সালে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজন যুবক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি ‘গিভ দেম গুড ল্যান্ড’ লিখে একটি নোট দেন। ওই নোটের ভিত্তিতে বিলাইছড়ির তিনকোনিয়া মৌজায় পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ীভাবে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে এলাকাটিকে একটি মৌজায় উন্নীত করা হয় এবং নিয়োগ দেওয়া হয় প্রথম হেডম্যান। তখন থেকেই জনপদটি ‘পাংখোয়াপাড়া’ নামে পরিচিতি পায়।

রাঙামাটি শহর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বিলাইছড়ি উপজেলা। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় এক ঘণ্টার পথ অতিক্রম করে পাংখোয়াপাড়ায় পৌঁছাতে হয়। রাইংক্ষ্যং নদীর তীর ঘেঁষে উঁচু পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত গ্রামটিতে যেতে পাড়ি দিতে হয় শতাধিক সিঁড়ি। বর্তমানে এখানে প্রায় ১২০টি পরিবারে ৬০০ জনের বেশি মানুষ বসবাস করছে।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর এই গ্রামটি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের জন্য পরিচিত। বিলাইছড়ির তিনকোনিয়া মৌজার হেডম্যান লাল এ্যাংলিয়ানা পাংখোয়া বলেন, ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নোটের মাধ্যমে জমি পাওয়ার ফলে পাংখোয়া জনগোষ্ঠী স্থায়ী বসবাসের সুযোগ ও সামাজিক মর্যাদা অর্জন করেছে। এ কারণে তারা আজও শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এদিকে গত মঙ্গলবার পাংখোয়াপাড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় যান রাঙামাটি-২৯৯ আসনের সংসদীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। সেখানে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পাংখোয়া জনগোষ্ঠীকে বিশেষভাবে ভালোবাসতেন এবং তাদের স্থায়ী বসবাস ও মর্যাদা নিশ্চিত করেছিলেন।