সদ্য ঢাকায় অফিস স্থাপন করা একটি মানবাধিকার সংস্থার কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাহরীকে খাতমে নুবুওওয়্যাত বাংলাদেশের আমীর মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। তিনি অভিযোগ করেছেন, সংস্থাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি আদায়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্বায়ত্তশাসন ও শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার দিকে ঠেলে দিতে চায়।
সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাব-এর সহকারী সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. আব্বাসী বলেন, সরকারের কিছু পক্ষের সাথে ইতোমধ্যে ওই মানবাধিকার সংস্থার চুক্তি হয়ে থাকতে পারে। তার মতে, আদিবাসী স্বীকৃতি পেলে প্রথমে স্বায়ত্তশাসন, পরে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রের দাবি উঠবে। যেমনটি ঘটেছে পূর্ব তিমুর বা সুদানের দারফুরে।
ড. আব্বাসী দাবি করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত কুকিচিন গোষ্ঠী জেনেটিক্যালি বনি ইসরাইলের হারানো একটি গোত্র, যাদের ইতিহাস তিন হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। তার ভাষায়, “বখতে নাসারের হামলায় বাইতুল মুকাদ্দাস ধ্বংস হওয়ার পর বহু ইহুদি বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের একটি অংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এসে বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রাম, মিয়ানমার ও মিজোরামে বসতি গড়ে তোলে।”
তিনি আরও বলেন, “জায়োনিস্ট শক্তির দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল, এসব বংশধরদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা। খ্রিস্টান মিশনারি তৎপরতা ও জায়োনিস্ট কৌশলের মিশ্রণে এ অঞ্চলে খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন লালন করা হচ্ছে- যেখানে ‘ডিপ স্টেটে’ থাকবে ইহুদিরা।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ড. আব্বাসী বলেন, যদি সরকার ও সেনাবাহিনী এখানে কঠোর নজরদারি না রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চল বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে পাহাড়ে পুনর্বাসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হয়েছিলেন, আর এ কারণেই তার হত্যার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।
ড. আব্বাসী জাতিসংঘের দেওয়া ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, “যারা প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে কোনো অঞ্চলে বসবাস করে আসছে, তাদেরই আদিবাসী বলা যায়। অথচ চাকমা, কুকিচিন প্রভৃতি গোষ্ঠী কয়েক শত বছর আগে বার্মা ও চায়না থেকে এসেছে। নৃতাত্ত্বিক দলিল অনুযায়ী তারা নৃগোষ্ঠী বা উপজাতি, আদিবাসী নয়।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ঢাকার মানবাধিকার সংস্থা আদিবাসী স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করবে। এরপর স্বায়ত্তশাসন ও বিচ্ছিন্নতার দিকে আন্দোলনকে নিয়ে যাবে। পশ্চিমা শক্তি ঠিক সেই দিকেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঠেলে দিচ্ছে।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদ- ইউরেনিয়াম, সিলিকন, রেয়ার আর্থ মিনারেল- আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর লোভের কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, আমেরিকা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও চীনকে চাপে রাখতে চায়। এজন্য একটি খ্রিস্টান ভূখণ্ড গঠন তাদের কৌশলের অংশ হতে পারে।
ড. আব্বাসী শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলকে এক হতে হবে। নাহলে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।
-পার্বত্য সময়


