পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির বন্দুকভাঙা রেঞ্জের মারিচুগ মৌন ও যমচুগ এলাকাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ভয় ও আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে দীর্ঘদিন ধরেই এসব এলাকা অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সম্প্রতি সেনাবাহিনী সেখানে সন্ত্রাস দমন অভিযান চালায়।
সেনা অভিযানে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধের চেষ্টা
গত ২ জানুয়ারি সেনাবাহিনীর অভিযানে এক ইউপিডিএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়। এছাড়াও, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয় এবং সন্ত্রাসীদের একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। সাময়িকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি কমার সঙ্গে সঙ্গেই পুনরায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকবার দুই গ্রুপের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে, যার ফলে অনেক নিরীহ মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ, ২৩ ফেব্রুয়ারি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টহল দল অভিযানে নামে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপ দুটি পালিয়ে যায়। অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে জেএসএস (সন্তু) ও ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর ব্যবহৃত বিভিন্ন ক্যালিবারের ২৪৭টি গুলির খোসা, তাজা গুলি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের সন্ধানে অভিযান চলমান রয়েছে।
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারে লিপ্ত সন্ত্রাসীরা
সেনা অভিযানের পরপরই জেএসএস ও ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়। জেএসএস দাবি করে যে সেনাবাহিনী যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রের জমি দখল করে সেনাক্যাম্প নির্মাণ করছে। অপরদিকে, ইউপিডিএফ প্রচার চালায় যে সেনাবাহিনী বন্দুকভাঙার যমচুগ পাহাড়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর অভিযানে পাহাড়ের সাধারণ জনগণ কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, তবে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার চালিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জেএসএস ও ইউপিডিএফের এই অপপ্রচার মূলত তাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার কৌশল। তারা সেনা অভিযানের বিরোধিতা করে, কারণ এতে তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়। এই কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তারা পাহাড় থেকে সেনাবাহিনীর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর মদদ ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলে পাহাড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সাধারণ জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
-পার্বত্য সময়


