“বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যের অবসান চাই” — এই শ্লোগান সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় সরকারপ্রধান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা এবং ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টার উদ্দেশে ৮ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করেছে।
সরকারের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বড়ুয়া সংগঠন এর দাবিসমূহ :
(১) পার্বত্য চুক্তিটি সংশোধনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
(২) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মূল্যায়ন কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তাকারী উপদেষ্টা কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন,পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর বোর্ড সভায়, তিন পার্বত্য জেলা প্রশাসনে আইন শৃংখলা কমিটিতে, তিন পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলা প্রশাসনে আইন শৃংখলা কমিটিতে, তিন পার্বত্য জেলার পৌরসভার শহর উন্নয়ন কমিটিতে বিশেষ বিবেচনায় বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
(৩) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর শুমারির তথ্যে অধ্যায় ৩ রাঙামাটি জেলার শুমারির ফলাফল ৩.১.৪ এর ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা ছকে বা খানায় বৌদ্ধ বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের পরিচিতি আলাদা ভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ শুমারি সম্পর্কিত অধিকতর তথ্য-উপাত্ত আলাদাভাবে ছকে বা খানায় বৌদ্ধ æবড়ুয়া” জনগোষ্ঠীর পরিচিতি সংযুক্ত করা।
(৪) রাষ্ট্রীয় ভাবে বৌদ্ধ æবড়ুয়া” জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বৈষম্যের শিকার বিধায় তিন পার্বত্য জেলা বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে সংসদ সদস্য পদ সংরক্ষিত করে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেয়া।
(৫) বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি হিসাবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা থেকে বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।
(৬) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বসবাসরত অন্য সকল জনগোষ্ঠীর ন্যায় বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সদস্যদের সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেয়া।
(৭) রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দিবস এবং শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সাথে সাক্ষাৎকালিন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বসবাসরত বড়ুয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যদের নিজস্ব সংগঠনের মাধ্যমে উল্লেখিত দিবসে আমন্ত্রণ জানানো।
(৮) বৈষম্য বিলোপ কমিশন গঠন করা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ:
স্মারকলিপি পেশকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ভদন্ত অজিতানন্দ মহাথেরো, মুক্তিযোদ্ধা ডা. বাদল বরণ বড়ুয়া, সমর জিৎ বড়ুয়া, সভাপতি নির্মল বড়ুয়া মিলন, সহ-সভাপতি জিনপদ বড়ুয়া ও শ্যামল চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ কুসুম বড়ুয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বুলবুল চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন কান্তি বড়ুয়া, অর্থ সম্পাদক অপু বড়ুয়া, এবং ছাত্র, যুব ও মহিলা বিষয়ক সম্পাদকসহ সংগঠনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের বক্তব্য:
নেতৃবৃন্দ বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ বড়ুয়া জনগোষ্ঠী একটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোয় যথাযথ প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে এই বৈষম্যের অবসান ঘটানো জরুরি।”

-পার্বত্য সময়