পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির দাবির আড়ালে দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এ দাবির পেছনে আলাদা রাষ্ট্র ‘জুম্মল্যান্ড’ প্রতিষ্ঠার নীলনকশা রয়েছে, যা দেশের অখণ্ডতার জন্য মারাত্মক হুমকি।
রোববার (১০ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি শহরের বনরুপা সিএনজি স্টেশন চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে পিসিসিপি নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সমাবেশে বক্তারা প্রশ্ন তোলেন- আদিবাসী স্বীকৃতির জন্য পাহাড়িদের এত মরিয়া হওয়ার কারণ কী? তাদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশের আদিবাসী নয়, বরং পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নেওয়া জনগোষ্ঠী।
ঐতিহাসিক দলিলের উদ্ধৃতি দিয়ে তারা বলেন, ১৭৩০ সালের দিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত বার্মা, তিব্বত, ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম, মঙ্গোলিয়া এবং চীন থেকে এসব জনগোষ্ঠীর অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে এসে বসতি স্থাপন করে। এই কারণে তাদের ‘ভূমিসন্তান’ বলা যায় না।
পিসিসিপি নেতারা দাবি করেন, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের বহু পণ্ডিত ও লেখক নিজেদের বইয়ে উল্লেখ করেছেন- তাদের আদি নিবাস বার্মা ও বার্মার চম্পকনগর। তারা সংবাদমাধ্যমেও একাধিকবার স্বীকার করেছেন যে, এ দেশের আদি বাসিন্দা তারা নন।
সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—বাংলাদেশে কোনো ‘আদিবাসী’ নেই; বরং এ জনগোষ্ঠীগুলোকে ‘ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক’ জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা রূপক ব্যবহার করে বলেন, “কাক যেমন ময়ূরের পেখম লাগালেই ময়ূর হয় না, তেমনি বাইরের দেশ থেকে আসা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা আদিবাসী হতে পারে না।” তাদের মতে, আদিবাসী হতে হলে হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভূমিসন্তান হওয়ার ঐতিহাসিক প্রমাণ থাকতে হবে, যা এই গোষ্ঠীগুলোর নেই।
পিসিসিপির অভিযোগ- আদিবাসী স্বীকৃতির দাবি মূলত আন্তর্জাতিক মহলকে প্রভাবিত করে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘আলাদা রাষ্ট্র’ গঠনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পিসিসিপি রাঙামাটি পৌর শাখার সভাপতি পারভেজ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হাবীব আল মাহমুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসান।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন, রাঙামাটি জেলা সভাপতি আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, সম্মেলন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন, জেলা যুগ্ম-সম্পাদক রবিউল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ইসমাঈল গাজী এবং পৌর সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু।
সমাবেশে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান- যারা আদিবাসী স্বীকৃতির আড়ালে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
-পার্বত্য সময়


