পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের ১৯ অক্টোবর নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখার নেতারা। বুধবার (১৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহর নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। একই বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলন পৃথকভাবে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।
পিসিসিপির স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত প্রায় ৫২ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ছাড়া গঠিত কমিশন দিয়ে ভূমি-সম্পর্কিত আলোচনা চালালে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেই কারণেই কমিশনের অনাগ্রহময় ও একপেশী সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তে পার্বত্যবাসী বাঙালিদের ভূমি-অধিকার বিপন্ন হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করেছেন।
স্মারকলিপি পেশকালে উপস্থিত ছিলেন— পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেন, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের রাঙামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য নেতারা।
পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন, কমিশনের নয়জন সদস্যের মধ্যে তিনজন সার্কেল চীফ (রাজা), তিনজন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, একজন আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান—মোট সাতজনই উপজাতি। এক সদস্য হিসেবে কমিশনের চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় চেয়ারম্যান রয়েছেন। ফলে বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত বলেই তারা মনে করেন।
পিসিসিপি সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, “কমিশনের গঠন দেখলেই স্পষ্ট যে পার্বত্য এলাকার ৫২ শতাংশ বাঙালির কোনো প্রতিনিধি নেই। এমন একটি কমিশন থেকে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নিলে বৃহৎ বাঙালি জনগোষ্ঠী ভূমিহীন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই কমিশনের রায়ে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ না রাখায় এটি সংবিধান পরিপন্থী ও একপক্ষীয়।”
তার কথায়, “পিসিসিপি ঘোষিত আট দফা দাবি মেনে নেয়ার আগ পর্যন্ত কোনো বৈঠক হলে আমরা তা স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে কঠোরভাবে প্রতিহত করব। পার্বত্য অঞ্চলের অধিকার বঞ্চিত নাগরিকদের পাশে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই চালিয়ে যাব।”
স্মারকলিপিতে পিসিসিপি তাদের আট দফা দাবির উল্লেখ করে বলেছে— কমিশনের বৈঠক না করা, ভূমি-হক সংরক্ষণ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ইত্যাদি। তারা দাবি করেছে, কমিশনের সদস্য নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও গোষ্ঠীভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ না হলে পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে না।
জেলা প্রশাসক অফিস থেকে এখনও বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করার সময় জেলা প্রশাসকের প্রতিকার ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে সংক্ষেপে জানিয়েছেন।
পরিপ্রেক্ষিতে নজরদারির প্রয়োজনীয়তা ও স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে সংবেদনশীলতা বিবেচনায় কমিশনের বৈঠক ও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করা না গেলে তীব্র সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ বাড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনগুলো।


