রাঙামাটির বরকল উপজেলার দুর্গম ভূষণছড়া গ্রামে ১৯৮৪ সালের ৩১ মে শান্তিবাহিনীর হাতে সংঘটিত ভয়াবহ বাঙালি গণহত্যার ৪১ বছর পার হলেও এখনো বিচারের মুখ দেখেনি এই নৃশংস ঘটনা। মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে নারী-শিশুসহ ৪৫০ জন বাঙালিকে হত্যা করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় শতাধিক ঘরবাড়ি।
শনিবার (৩১ মে) গণহত্যা দিবস উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) বরকল উপজেলা শাখার আয়োজনে ফারুক ই আযম (রা.) দাখিল মাদ্রাসায় এক আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, শান্তিবাহিনীর তৎকালীন সামরিক কমান্ডার মেজর রাজেশ ওরফে মণি স্বপন দেওয়ানের নেতৃত্বে ১২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল ওই হত্যাকাণ্ড চালায়। আহত হন বহু মানুষ, ধ্বংস হয় বসতঘর ও সহায়সম্বল।
আলোচনায় বক্তারা অভিযোগ করেন, এই গণহত্যার নেতৃত্বদাতা রাজেশ শান্তিচুক্তির আওতায় সাধারণ ক্ষমা পান এবং পরবর্তীতে বিএনপি সরকারের মনোনয়নে জাতীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হন। তারা বলেন, গণহত্যার মতো অপরাধের বিচার হওয়া উচিত, কেননা শান্তিচুক্তিতে শান্তিবাহিনীকে ফৌজদারি অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়নি।
আলোচনা সভায় আরও জানানো হয়, গণহত্যার শিকার পরিবারগুলো আজও পুনর্বাসনের আশায় দিন কাটাচ্ছে। বক্তারা অবিলম্বে বিচার ও ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণ পুনর্বাসনের দাবি জানান।
অনুষ্ঠান শেষে নিহতদের কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্বপ্নচূড়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক হতদরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়।
পিসিসিপি বরকল উপজেলা সভাপতি তসলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল গাজীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ মুরশিদ, ভূষণছড়া গ্রামের সমাজসেবক আবু বক্কর সিদ্দিক, শাহ আলম সওদাগর, আব্দুল হালিম, সুলতান আহমেদ মণ্ডল, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল, পিসিসিপি জেলা প্রতিনিধি কামাল উদ্দিনসহ গণহত্যার শিকার পরিবারের সদস্যরা।
-পার্বত্য সময়


