বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী 'আদিবাসী' শব্দের কোনো সাংবিধানিক স্বীকৃতি নেই। এমন অবস্থায়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার সম্প্রতি একটি আদিবাসী-আখ্যায়িত বিজু উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
বুধবার (৯ এপ্রিল ২০২৫) সকালে রাঙামাটি পৌরসভা চত্বরে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী বিজু উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় জনমনে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে- একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি কীভাবে সংবিধানের পরিপন্থী একটি অনুষ্ঠানে সরকারি পদে থেকে অংশ নিতে পারেন?
এ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) রাঙামাটি জেলা শাখা এক প্রেস বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান বলেন, “উৎসবের ব্যানার ও ফেস্টুনে লেখা হয়েছে—‘আদিবাসী জুম্ম জাতির অস্থিত্ব নিশ্চিতকরণে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনে অধিকতর সামিল হও।’ বিজু একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব, সেখানে রাজনৈতিক আন্দোলনের স্লোগান কেন থাকবে? এতে প্রমাণ হয়, উৎসবের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।”
তারা আরও বলেন, “‘আদিবাসী’ শব্দটি বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত নয়। এমনকি ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তিতেও এ শব্দের উল্লেখ নেই। বরং সেখানে ‘উপজাতি’ শব্দটি বলবৎ থাকার কথা বলা হয়েছে। তাই ‘আদিবাসী’ শব্দটি ব্যবহার করে কর্মসূচি চালানো আসলে সংবিধান ও শান্তিচুক্তির বিপরীত।”
বিবৃতিতে পিসিসিপি আরও দাবি করে, “সংবিধানবিরোধী বক্তব্য, কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা পাহাড়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে পারে। এসব কর্মকাণ্ডে কেউ যদি সরকারি পদে থেকেও অংশ নেন, তবে তা আরও উদ্বেগজনক।”
পিসিসিপির পক্ষ থেকে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়—এসব ঘটনায় যেন প্রয়োজনীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পার্বত্য এলাকার স্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক চেতনা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা হয়।

-পার্বত্য সময়