খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর ভয়ে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে—এই দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে এমন দাবি করা হলেও তদন্তে দেখা গেছে, সেটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ভিডিও।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে এক কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। ইউপিডিএফ (প্রসীতপন্থী) সমর্থিত ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে এই আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়।

এই ঘটনার পর অনলাইনে একটি কথিত “সংবাদ প্রতিবেদন” আকারে ভিডিও প্রচার করা হয়, যেখানে বলা হয়—“খাগড়াছড়ির মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে সেনাবাহিনী, তারা প্রাণের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।” ভিডিওটি প্রকাশের পর এটি ৪৬ লাখেরও বেশি বার দেখা হয় এবং প্রায় ৪৫ হাজার পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের দাবি- অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটির কোনো অংশই বাস্তব নয়। বরং এটি গুগলের উন্নত এআই টুল ‘Veo’ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে—যা টেক্সট প্রম্পট থেকে সর্বোচ্চ ৮ সেকেন্ডের বাস্তবসম্মত ভিডিও বানাতে সক্ষম। ভাইরাল ভিডিওটির দৈর্ঘ্যও ঠিক ৮ সেকেন্ড, এবং এর নিচের ডান কোণে ‘Veo’ নামের জলছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ভিডিওর দৃশ্য পর্যবেক্ষণে মানুষের মুখের গঠন, অঙ্গভঙ্গি ও পটভূমির সঙ্গে বাস্তব পরিবেশের অসামঞ্জস্যও ধরা পড়ে, যা সাধারণত এআই-নির্মিত কনটেন্টের বৈশিষ্ট্য।

বিশ্লেষণ নিশ্চিত করতে ভিডিওটি এআই শনাক্তকারী দুটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা করা হয়—‘ডিপফেক ও মিটার’ এবং ‘হাইভ মডারেশন’। প্রথমটির ‘AVSRDD’ ও ‘TALL’ বিশ্লেষণ মডেল অনুযায়ী ভিডিওটি এআই-উৎপাদিত হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯.৯ শতাংশ, আর দ্বিতীয় প্ল্যাটফর্মের বিশ্লেষণ অনুযায়ী তা ৯২.৭ শতাংশ।

ফলে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আলোচিত ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে বানানো একটি ভুয়া কনটেন্ট, যা খাগড়াছড়ির বাস্তব পরিস্থিতি বিকৃত করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যে প্রচারিত হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ভিডিও ভবিষ্যতে সামাজিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তাই এআই-নির্ভর কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য গণমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা জরুরি।