খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে হানিকুইন জাতের আনারসে ভরে উঠেছে বাগান। আগাম ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ তারা। বিশেষ করে রমজান মাসে পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় বিপণনেও দেখা দিয়েছে বড় সংকট।
জেলার সদর, মহালছড়ি ও গুইমারা—এই তিন উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আনারস চাষ হয়। পাহাড়ের ঢালে সারি সারি করে রোপণ করা হয় উচ্চফলনশীল হানিকুইন জাতের আনারস। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। রোজার আগে থেকেই এসব এলাকায় লক্ষাধিক আনারস পাকতে শুরু করে। তবে দেশব্যাপী সরবরাহ না হওয়ায় বাজারে চাহিদা অনুযায়ী মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।
চাষিরা জানাচ্ছেন, একেকটি আনারস উৎপাদনে ৫ থেকে ৭ টাকা খরচ হয়। অথচ বাজারে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ টাকায়, যা উৎপাদন খরচ তুললে লাভ প্রায় থাকছেই না। ফলে ফলন ভালো হলেও আয় কম হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন কৃষকরা।
ব্যবসায়ীরাও বলছেন, ফলন ভালো হলেও পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তবুও বাগানে আনারস পেকে যাওয়ায় বিকল্প না পেয়ে বাধ্য হয়েই সেগুলো সংগ্রহ করে নিতে হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ বাছিরুল আলম জানান, পাহাড়ে জুম চাষের পরিবর্তে কৃষকদের বিকল্প চাষে আগ্রহী করে তুলতেই এবার ২০০ জন আনারস চাষিকে মোট সাড়ে ৪ লাখ হানিকুইন জাতের চারা বিতরণ করা হয়েছে। প্রতি চাষিকে দেওয়া হয়েছে ২,২৫০টি করে চারা।
তিনি আরও জানান, এবছর জেলায় মোট ১৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ হাজার মেট্রিকটন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।
অর্থকরী এই ফসলে কৃষকের আগ্রহ বাড়লেও বাজার ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং বিপণন জটিলতায় লাভের মুখ দেখছেন না তারা। তাই পাহাড়ি আনারসের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে চাষিরা সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা কামনা করছেন।
-পার্বত্য সময়


