রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ২৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ‘সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ বর্তমানে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনায় রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সভায় প্রকল্পটির কারিগরি, আর্থিক ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৭৫৪ কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্পের আওতায় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম উপজেলায় মোট ছয়টি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদগুলোকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা তদারকি আরও জোরদার হবে।
এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, পর্যটন খাত বিকাশ পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি ব্রিজ, কালভার্ট, ড্রেন, হেলিপ্যাড, এনিম্যাল প্যাসেজ ও বনায়ন কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে সভায় ভূমি অধিগ্রহণ, ব্যয়ের যৌক্তিকতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পের টেকসই বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এসব বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


