বান্দরবানে ফানুস ওড়ানো ও রথ উৎসর্গের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে মারমা মারমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা)। গত শুক্রবার রাতে বিভিন্ন বিহারে প্রার্থনা, হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, ফানুস উড়ানো, নদীতে রথ উৎসর্গসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মারমাদের ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি অংচ মং মারমা।
সূত্রে জানা যায়, পার্বত্য অঞ্চলে চাকমা সম্প্রদায়রা এই উৎসবকে প্রবারণা পূর্ণিমা বললেও বিশেষ করে মারমা জনগোষ্ঠীররা এ উৎসবকে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে নামে উদযাপন করে আসছে দীর্ঘ কাল থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে শুক্রবার সন্ধ্যায় বান্দরবানের পুরাতন রাজার মাঠ থেকে বিশাল খারের একটি রথ যাত্রা বের করা হয়। এসময় রথ যাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করতে দেখা যায়। এতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মোমবাতি, আগরবাতি প্রজ্বলন করে বুদ্ধ মূর্তির প্রতি প্রণাম নিবেদন সহকারে বিভিন্ন সামগ্রী দান করেন।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি অংচমং মারমা জানান, রথ বিসর্জন ও ফানুস ওড়ানোর উৎসবে কয়েক হাজার মানুষের সমাগমে বান্দরবান শহর হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। এসময় রঙিন ফানুসের আলোকিত হয়েছে আকাশ এবং ছড়িয়ে পড়ে শান্তির বার্তা। বিভিন্ন ধর্মীয় রীতি-নীতি শেষে শুক্রবার মধ্যরাতে সাঙ্গু নদীতে রথ উৎসর্গের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
- -পার্বত্য সময়


