দেশের বৃহত্তম জেলা রাঙামাটিতে নির্বাচনী তোড়জোড় চললেও সাধারণ ভোটারদের মাঝে উৎসবের আমেজ এবার অনেকটাই ম্লান। সমতলের জেলাগুলোতে প্রচার-প্রচারণার ধুম থাকলেও পাহাড়ের এই জনপদে নির্বাচনী পরিবেশ তুলনামূলক নিরুত্তাপ। মূলত বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকা এবং আঞ্চলিক দলগুলোর অনুপস্থিতিই এই স্থবিরতার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পথে পথে ব্যানার-ফেস্টুন আর প্রার্থীদের গণসংযোগ থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সেই চিরচেনা উদ্দীপনা নেই। স্থানীয় সাংবাদিক ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের মতে, এবারের নির্বাচনে শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস না থাকায় জনমনে আগ্রহ কম। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের প্রভাবশালী আঞ্চলিক সংগঠনগুলো নির্বাচনী মাঠে না থাকায় পাহাড়ি ভোটারদের একটি বড় অংশ এই নির্বাচনকে অনেকটা ‘পানসে’ হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচনী বৈচিত্র্য ছাপিয়ে এবার আলোচনায় উঠে এসেছে পাহাড়ের নিরাপত্তা ও সম্প্রীতির প্রশ্ন। গত দেড় বছরে বিভিন্ন ইস্যুতে পার্বত্য অঞ্চল বারবার অশান্ত হয়ে উঠেছে, বেড়েছে সংঘাত ও প্রাণহানি। ফলে জয়-পরাজয়ের চেয়েও সাধারণ মানুষের কাছে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘শান্তি’র বিষয়টি। ভোটারদের প্রত্যাশা, যারাই নির্বাচিত হয়ে আসুক, তাদের প্রধান কাজ হতে হবে পাহাড়ের সংঘাত বন্ধ করে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনা। প্রার্থীদের প্রচারণাতেও এই দাবির প্রতিফলন ঘটছে; প্রায় সবারই প্রধান প্রতিশ্রুতি—নির্বাচিত হলে পাহাড়কে শান্ত রাখবেন।

ভৌগোলিক দুর্গমতা এবারের নির্বাচনেও বড় চ্যালেঞ্জ। জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে বেশ কিছু দুর্গম কেন্দ্র রয়েছে যেখানে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন ২০টি দুর্গম কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম ও কর্মকর্তাদের হেলিকপ্টারে করে পাঠানো হবে। নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, পাহাড়ের নির্বাচন সমতলের মতো নয়। এখানে প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ সব দপ্তরের সমন্বিত টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করতে হয়।