পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে (মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন) অপসারণ এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালি ও অবাঙালি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। তাদের দাবি, ওই বিধান অনুযায়ী উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা অনুসরণ করা হয়নি।
বক্তারা বলেন, চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে অ-উপজাতীয় একজন সংসদ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
লংগদুর কালাপাগুজ্যা মৌজার হেডম্যান মো. মীর সিরাজ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি সুজিত দেওয়ান, জেলা কার্বারি সভাপতি নন্দ বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা স্বপন মল্লিক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নুর জাহান পারুল এবং মহিলা হেডম্যান মানুচিং মারমা।
তারা পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করে।
স্মারকলিপিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসনিক স্থবিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং চুক্তি বাস্তবায়নের জটিলতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ এবং একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। তবে এই কাঠামো পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি একজন অ-উপজাতীয় সংসদ সদস্যকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, রাঙামাটির সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদ্য পদত্যাগকারী মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন।
তবে এই পদত্যাগ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন মহল ও সংবাদমাধ্যমের বরাতে দাবি করা হয়, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি; বরং পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
নাগরিক সমাজের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তারা বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করে চুক্তির বিধান অনুযায়ী উপজাতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন।


