বর্ষবিদায় ও নববর্ষ বরণকে কেন্দ্র করে বৈসাবি ঘিরে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে রাঙামাটিসহ পার্বত্য জনপদ। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৃহত্তম এই সামাজিক উৎসব উপলক্ষে শহর থেকে দুর্গম পাহাড়ি পল্লি- সবখানেই চলছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে রাঙামাটির ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী নানা আয়োজন। এর আগে রাঙামাটি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন।
পরে ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। উদ্বোধনের পর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয় উৎসবের। এ সময় শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করেন মনোজ্ঞ ‘সম্প্রীতি নৃত্য’।
মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ের ১৩টি ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী এই উৎসব পালন করে থাকে এবং সরকার সবার অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, পাহাড় ও সমতলে কোনো বৈষম্য থাকবে না- এমন নীতিতেই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৈসাবি এখন শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি অস্ত্র ত্যাগ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানান।
উৎসব উপলক্ষে বসেছে সাত দিনব্যাপী মেলা, যেখানে রয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প ও তাঁতের পণ্যের সমাহার। পাশাপাশি জলোৎসব, পাঁজন রান্না প্রতিযোগিতা, গরাইয়া নৃত্য, ঘিলা খেলা ও নাট্য প্রদর্শনীসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন চলছে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগামী ১০ এপ্রিল মেলার সমাপ্তি ঘটবে। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী উৎসবের আয়োজন চলবে, যা ১৭ এপ্রিল সাংগ্রাই জলোৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।


