পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ‘রাঙামাটি (মানিকছড়ি)–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও যথাযথমানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৬৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্ঘটনাপ্রবণ সড়কটি আধুনিক ও নিরাপদ মহাসড়কে রূপ নিতে যাচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাত্র ১২ ফুট প্রশস্ত এক লেনের এই সড়ককে ১৮ ফুট প্রশস্ত দুই লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়ন করা হবে। একই সঙ্গে নতুন করে ৮৫টি কালভার্ট নির্মাণ এবং বিদ্যমান ১৩টি কালভার্ট সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া প্রায় ৮০ হাজার বৃক্ষরোপণ ও সড়ক সংস্কার কার্যক্রমও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়–এর উদ্যোগে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার মধ্যে যোগাযোগ হবে দ্রুত ও নিরাপদ। এতে কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও পর্যটন খাতের বিকাশ ঘটবে। বিশেষ করে সাজেক ভ্যালিসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।
মানিকছড়ি এলাকার বাসিন্দারা বলেন, প্রায় সাড়ে ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত সরু এবং অসংখ্য তীক্ষ্ণ বাঁক ও পাহাড়ি ঢালে ভরা। দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে আসছিল। বিশেষ করে নানিয়ারচর ও মহালছড়ি এলাকার মানুষের জন্য এই সড়কটি দীর্ঘদিন আতঙ্কের কারণ হয়ে ছিল।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, রাঙামাটি–মহালছড়ি–খাগড়াছড়ি সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক। এর বর্তমান প্রশস্ততা মাত্র ১২ ফুট হওয়ায় যান চলাচলে নানা ঝুঁকি ছিল। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ সালে একনেক সভায় ১০৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।


