টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে রাঙ্গামাটির প্রতীকী স্থাপনা ঝুলন্ত সেতু গত ১৫ দিন ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটন কর্তৃপক্ষ সেতুতে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক সেতুতে উঠতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন।
পর্যটন করপোরেশন জানিয়েছে, কাপ্তাই হ্রদের পানি আরও কমলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেতুটি পানির ওপর ভেসে উঠবে। তবে এখনো হ্রদের পানির উচ্চতা বেশি থাকায় সেতুর আশপাশে পর্যটক কমে গেছে, বেকার সময় কাটাচ্ছেন নৌচালকরা। তবুও অনেকে সেতুর সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন বা বোটে করে অন্য এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছেন।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের তথ্যমতে, গত ৩০ জুলাই থেকে সেতুটি পানিতে ডুবে আছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) পর্যন্ত এটি প্রায় ৬ ইঞ্চি পানির নিচে রয়েছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৭.৭ ফুট মিন সি লেভেল, পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে সর্বোচ্চ ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে।
রাঙ্গামাটি সিএইচটি ট্যুরিজম অ্যান্ড কালচার রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “সেতু নির্মাণের সময় হ্রদের পানির উচ্চতা বিবেচনা না করায় প্রতি বর্ষায় এটি ডুবে যায়। এতে পর্যটন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সেতুটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।” তিনি নতুন বা সংস্কার করা আধুনিক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তা অলোক বিকাশ চাকমা বলেন, “৪০ বছরের পুরোনো সেতুটি আধুনিকায়নের জন্য আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রকল্প অনুমোদন পেলে পর্যটকদের জন্য উন্নত সেতু নির্মাণ সম্ভব হবে।”
১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন নির্মিত ঝুলন্ত সেতুটি রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পের একটি প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।
-পার্বত্য সময়


