খাগড়াছড়িতে গণপিটুনিতে এক বাঙালি যুবক হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই উপজাতি শিক্ষার্থীদের রোষের শিকার বাঙালি শিক্ষক। এবার ধর্ষণের 'সাজানো' অভিযোগে টেকনিক্যাল স্কুলের ইন্সট্রাক্টর (বিল্ডিং মেইনটেন্যান্স) ও বিভাগীয় প্রধান শিক্ষক আবুল হাসনাত মুহাম্মদ সোহেল রানাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে উপজাতি ছাত্ররা।
মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) রিপল বাপ্পী চাকমা।
এই হত্যাকাণ্ডের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই শিক্ষক সোহেল রানাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল পাহাড়ি (উপজাতি) ছাত্রছাত্রীরা। বেশ কয়েক বছর আগে সোহেল রানার বিরুদ্ধে এক পাহাড়ি (উপজাতি) ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা হয়েছিল। ওই ছাত্রী আদালতে এসে সাক্ষ্য দেয় তিনি কোন ধর্ষণের শিকার হননি। পাহাড়ি (উপজাতি) একটি সংগঠনের চাপে মামলা করেছে মর্মে সাক্ষ্য দিলে সোহেল রানা খালাস পান এবং চাকরিতে যোগদান করেন। সোহেল রানা চাকরিতে যোগদানের পর থেকে পাহাড়ি (উপজাতি) ছাত্ররা তার বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির নানা অভিযোগ এনে প্রত্যাহার দাবি করে আসছিল। আজ ওই শিক্ষক বিদ্যালয় এলে ধর্ষণের অভিযোগ এনে শিক্ষককে হত্যা করা হয়।
জানা যায়, পাহাড়িদের প্রতিবাদের মুখে ওই শিক্ষক আজ বিদ্যালয় রিলিজ অর্ডার নিতে এসেছিলেন। কিন্তু তাকে সেই সুযোগ দেয়া হলো না।
এ ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়ভাবে উপজাতি ও বাঙালিদের মধ্যকার উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে নিতে খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
-পার্বত্য সময়


