রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দিয়েছে। শুকিয়ে গেছে পাহাড়ি ঝিরি, ছড়া ও ঝরনাগুলো। এক সময়ের প্রবাহমান ঝিরি এখন মরা ছড়ায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা ছিল কুয়া, সেখানেও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় মিলছে না প্রয়োজনীয় পানি। ফলে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে কুকিছড়া, ত্রিপুরাপাড়া, জনতাপাড়া, বারুদগলা, সোহেল পাড়াসহ অন্তত ২৪৭ পরিবারের মানুষ।
পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান হওয়ায় স্থানীয়রা দিনে বহুবার কয়েকশ ফুট নিচে নেমে ফোঁটা ফোঁটা পানি সংগ্রহ করছেন। নারীদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। কেউ কেউ সপ্তাহে একবার গোসল করতে পারলেও সেটিও এক-দুই লিটার পানিতে সেরে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
জুরাছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য অরুণ চাকমা সংবাদমাধ্যম সমকালকে বলেন, "প্রচণ্ড গরমে পাহাড়ে মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পানির সংকট সবকিছু আরো জটিল করে তুলেছে।"
স্থানীয় কার্বারি কিরণ জয় চাকমা জানান, শুষ্ক মৌসুম এলেই খাবারের চেয়েও বিশুদ্ধ পানির সংকট বেশি হয়। পাড়ার নারীরা রান্না, গৃহস্থালি ও পান করার পানি আনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিচে নামেন।
এছাড়া জেলার বনযোগীছড়া, মৈদং ও দুমদুম্যা ইউনিয়নের অনেক গ্রামেও পানির একই রকম সংকট চলছে। বালিশ পাড়া, ছোট পানছড়ি, জামুরাছড়ি, দুলুছড়ি, শিমাইতুলি, তেছড়ি প্রভৃতি এলাকায় একই চিত্র।
স্থানীয় উন্নয়নকর্মী পলাশ খীসা বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তন এবং নির্বিচারে বন উজাড়ের কারণে ঝিরি ও ছড়ার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুর জীবনও হুমকির মুখে পড়েছে।" তিনি বলেন, "ঝিরি রক্ষা ও পানির উৎস টিকিয়ে রাখতে বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।"
জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা বলেন, "বছর বছর পানি সংকট বেড়েই চলছে। বাণিজ্যিকভাবে সেগুন বনায়নের ফলে ছায়াবেষ্টিত পরিবেশ হারিয়ে গেছে। এতে পাহাড় শুকিয়ে যাচ্ছে।"
পানির সংকট নিরসনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়নে রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। উপজেলা উপসহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রকি দে বলেন, "দুর্গমতার কারণে এসব এলাকায় পানি সরবরাহ কঠিন ও ব্যয়বহুল। আমরা রিং ওয়েল ও গ্রেভিটি ফ্লো সিস্টেম প্রকল্পের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি।"
সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ না থাকলে ভবিষ্যতে পাহাড়ে জীবনযাত্রা আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

-পার্বত্য সময়