বান্দরবানের রুমায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এই ঘটনা নীরবে পাড়া কারবারি (গ্রাম প্রধান) নিজের বাড়িতে সালিশ বসিয়ে নামমাত্র বিচারের নামে ধামাচাপা দিতে চান। আর এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পাহাড়ের আলোচিত স্যোশাল মিডিয়া এক্টিভিস্ট পাইশিখই মারমা।
আজ বুধবার (২০ আগস্ট) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে পাইশিখই বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণ হলে জাতিগত দাঙ্গা দোহাই দিয়ে পাহাড় গরম হয়ে যায়। নিজ জাতির ভাই কর্তৃক ধর্ষণ হলে সামান্য অর্থ বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, ধিক্কার জানাই এই সমাজের ভুয়া,সাম্প্রদায়িক বিচার ব্যবস্থা।
জানা যায়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন একই পাড়ার শৈহাইনু মার্মা। পরে উহাইসিং মার্মা, ক্যহ্লাওয়াং মার্মা, ক্য ওয়াং মার্মা, চড়াই মার্মা মিলে ওই ছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে ধর্ষণের শিকার ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে পাড়া কারবারি থোয়াইসা মারমার বাসভবনে ধর্ষণ সংক্রান্ত সামাজিক সালিশে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে বুধবার (২০ আগস্ট) ভোরে অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষণে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউপির পাইন্দু হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা আহ্লামং মার্মার ছেলে ক্যসাইওয়ং মার্মা (১৯), রাংমেশে মার্মার ছেলে ক্যহ্লাওয়াং মার্মা (২২) ও থোয়াইনুচিং মার্মার ছেলে উহাইসিং মার্মা (২৩)।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী বলেন, ভোরে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।

-পার্বত্য সময়