খাগড়াছড়ির জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র রিছাং ঝর্ণার সড়কে নির্মিত গার্ড ওয়াল নির্মাণের মাত্র এক মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। পাহাড়ি ঢালে নির্মিত এ সুরক্ষা দেয়ালটি মাটিসহ নিচে পড়ে গিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ভেঙে পড়া অংশে ইট ও কংক্রিটের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকলেও কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সংস্কার কাজ শুরু করেনি।
শুধু ধসে পড়া অংশ নয়, গার্ড ওয়ালের অপর একটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে সড়কের একাধিক জায়গায় ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই এত অল্প সময়ে গার্ড ওয়ালটি ধসে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন্ত ত্রিপুরা গণমাধ্যমকে বলেন, “অল্প বৃষ্টিতেই সড়কে ভাঙন দেখা যাচ্ছে। এখন যদি ভারী কোনো যানবাহন চলে, তাহলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তৃপ্তি শংকর চাকমা সংবাদমাধ্যম জনকণ্ঠকে বলেন, “প্রকল্পে বরাদ্দ কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত টেকসই নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে ধসে যাওয়া অংশ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, “রিছাং ঝর্ণার সড়কটি এলজিইডি নির্মাণ করেছে। গার্ড ওয়াল ধসে পড়ার বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার আওতাধীন ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বিআরপি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফোরকানের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নাজমুল এন্টারপ্রাইজ’।
নিম্নমানের কাজ ও দায়সারা নির্মাণের ফলে কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প এক মাসেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
-পার্বত্য সময়


