রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ১৯৯৭-এর সঠিক বাস্তবায়ন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ডায়লগ ফর পিস অব চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস (ডিপিসি)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আইনজীবী সমাজ এবং নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এস এম আইয়ুব। তিনি চুক্তির বাস্তবায়নকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত বিভিন্ন ইস্যু সমাধানে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

ডিপিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সুজন। গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান বক্তা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. আবদুল্লাহ আল ইউসুফ। তিনি চুক্তির ধারাগুলো বিশ্লেষণ করে বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বয়ের ঘাটতি থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজও অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোখতার আহমেদ, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট প্রতীম রায় পাম্পু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, রাঙামাটি-২৯৯ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী বিপিন জ্যোতি চাকমা, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মিহির বরণ চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, ডিপিসির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল গাফফার মুন্না ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. আইয়ুব চৌধুরীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক ইনকিলাবের এডিটরিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সৈয়দ ইবনে রহমত। এতে তিনি চুক্তির আদ্যোপান্ত তুলে ধরে বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ঘাটতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন শুধু পাহাড় নয়, দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। তাই এই বিষয়ে জাতীয় ঐক্য ও আন্তঃসম্প্রীতির ভিত্তিতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।