খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লোগাং ইউনিয়নের দক্ষিণ ধুধুকছড়ার হাতিমারা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রূপসী চাকমা (৪৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যু নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই আঞ্চলিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) পরস্পরবিরোধী দাবি করেছে।
জেএসএসের দাবি: ইউপিডিএফের গুলিতে মৃত্যু
জেএসএসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,  সোমবার (৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপের একটি সশস্ত্র দল দক্ষিণ ধুধুকছড়া এলাকায় প্রবেশ করে পার্বত্য চুক্তি সমর্থকদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
সকাল ১১টার দিকে গুলিবর্ষণের সময় নিজ ঘরে থাকা রূপসী চাকমা গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত রূপসী চাকমার স্বামী হেমন্ত চাকমা এবং তিনি বন্দনা চাকমা নামে এক কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন।
ইউপিডিএফের দাবি: জেএসএসের গুলিতে মৃত্যু
অন্যদিকে, ইউপিডিএফ-প্রসীত গ্রুপের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নারী হত্যার ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তাদের ভাষ্যমতে, সকাল ৮টার দিকে জেএসএস-সন্তু গ্রুপের একটি সশস্ত্র দল দক্ষিণ ধুধুকছড়া এলাকায় এসে ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
এই সময় একটি গুলি একটি বাড়ির বেড়া ভেদ করে রূপসী চাকমার পিঠে লাগে, ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক, প্রশাসনের তদন্তের দাবি
রূপসী চাকমার মৃত্যু ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, পার্বত্য এলাকায় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এমন সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটছে। রূপসী চাকমার মৃত্যু নতুন করে পার্বত্য পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
স্থানীয় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছি। তদন্তের পরই বলা যাবে, কার গুলিতে রূপসী চাকমার মৃত্যু হয়েছে।”
এদিকে, সাধারণ মানুষ পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

-পার্বত্য সময়