সম্প্রতি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পাঠদান কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। অপপ্রচারে দাবি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বনবিভাগের লোকজন সাজেকে কলেজ প্রতিষ্ঠায় এবং পাঠদানে বাধা দিচ্ছে। কলেজ স্থাপনে সেনাবাহিনী ও বন বিভাগের বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগেই বন বিভাগ আপত্তি জানিয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, এই অপপ্রচারের পেছনে মূলত ইউপিডিএফের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, পরিচালনা কমিটি, আর্থিক সক্ষমতা এবং শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনসহ নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করতে হয়। তবে সাজেকে প্রস্তাবিত কলেজটির ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বাঘাইছড়ি রেঞ্জের আওতাধীন সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কারণে বন বিভাগের কর্মকর্তারা নির্মাণকাজে বাধা দেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সেনাবাহিনী সাজেকে কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পাঠদান কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধির দাবি, বিষয়টি মূলত সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিস্তারের চেষ্টা থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউপিডিএফের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রগুলো ইউপিডিএফের সাজেক ইউনিয়নের বিচার বিভাগের সমন্বয়ক বাবুধন চাকমা এবং ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমার নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।

সাজেকের মতো দুর্গম এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কোনো বিরোধ না থাকলেও, সংশ্লিষ্টরা বলছেন—কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারি বিধি-বিধান ও জমির আইনগত অবস্থান নিশ্চিত করেই কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষ যাতে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।