আদিবাসী স্বীকৃতি আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধি প্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)। এদিকে পাহাড়ের রাজনীতিকদের একাংশের দাবি, মূলত তিনি স্বপদে নিজেকে বহাল রাখতেই আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন।
সন্তু লারমা বলেছেন, ‘বিগত কোন সরকারই আমাদের নিয়ে কেউ ভাবেনি। এই সরকারও ভাবছে না। সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া চলছে সেখানেও আমাদের কি পরিচয় হবে সেটি নির্ধারণ করা হয় নি।’
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গামাটিতে আশিকা কনভেনশন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জুম্ম জনগণের সামগ্রিক পরিস্থিতি আলোকে নাগরিক সমাজের ভূমিকা প্রসঙ্গে সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় সন্তু লারমা বলেন, ‘আমরা সংখ্যায় কম, তাই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা সংখ্যায় বৃহত্তর, তাদের যদি একটা জাতিগত পরিচয় থাকতে পারে, তাহলে আমাদের থাকবে না কেন? সাধারণত এমন নামে পরিচিত করা হচ্ছে যেখানে, অসম্মান, ঘৃণা, বিদ্বেষ, রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভুঁইফোড় সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পাঠ্য বই থেকে আদিবাসী গ্রাফিতি বাদ দেয়া হয়। তার প্রতিবাদ করায় পাহাড়ি ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই সকারর এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন ভূমিকা রাখেনি। তাই চুক্তি বাস্তবায়ন ও অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাহাড়ি নেতা বলেন, সন্তু লারমা ২৭ বছর ধরে আঞ্চলিক পরিষদের পদ দখল করে আছে। সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন। নির্বাচনের দাবি উঠছে। নির্বাচন হলে উনাকে ক্ষমতার চেয়ার ছাড়তে হবে। তাই এখন নানা দাবি সামনে এনে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়।
এই পাহাড়ি নেতা আরও বলেন, সন্তু লারমা পাহাড়িদের নিয়ে ভাবেন না। তিনি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। উনিই পার্বত্য চুক্তিকে স্বাক্ষর করেছিলেন, যেখানে আমাদের উপজাতি বলা হয়েছে। এতদিন পর কেন মনে হলো আমরা আদিবাসী? এর উত্তর হচ্ছে, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের পদটি লরবরে হয়ে গেছে।

-পার্বত্য সময়